ঢাকা, ৬ অক্টোবর ২০২৬: ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই (Renewables Now)’ প্রচারাভিযানের বার্তা নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পাঁচ নদীর মুখ থেকে শুরু হওয়া ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ ৬ অক্টোবর টেকনাফের লম্বরী বিচে পৌঁছানোর পর সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। ২২ দিনের এই পদযাত্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য ও বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাসফিকুল হাসান টনি।

ধরা ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর নেতৃত্বে ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে এ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রচারাভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টনির হাতে প্রচারাভিযানের ব্যানার তুলে দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

শ্যামনগর থেকে শুরু করে কয়রা, মোংলা, শরণখোলা, পাথরঘাটা, তালতলী, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালী, চরফ্যাশন, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বাঁশখালী, পেকুয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার ও টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় জনপদ অতিক্রম করেন টনি। পদযাত্রায় উপকূলীয় মানুষের জলবায়ু ঝুঁকি, জীবিকা, নিরাপদ পানির সংকট, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

যাত্রাপথের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মানুষ, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সংগঠনগুলো পদযাত্রার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। মোংলা, চিলা, তালতলী, কলাপাড়া, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া, মহেশখালী ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, সাইকেল র‍্যালি, ঘুড়ি উৎসব ও পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন পর্যায়ে পদযাত্রায় অংশ নেন।

পদযাত্রার সময় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা এবং রামপাল ও পায়রার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের জনপদ অতিক্রমকালে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পরিবেশ, নদী, বন, জীববৈচিত্র্য, জীবিকা ও জ্বালানি ব্যবস্থার প্রভাব নিয়ে মতবিনিময় করেন টনি।

টনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং সবার জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি নিশ্চিত করাই ছিল এ পদযাত্রার মূল বার্তা। পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের জলবায়ু ঝুঁকি ও জ্বালানি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোও ছিল উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য।

‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ মাসফিকুল হাসান টনির নবম একক পদযাত্রা। এই দীর্ঘ পথচলার মধ্য দিয়ে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই (Renewables Now)’ প্রচারাভিযানের বার্তা দেশের বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও সংহতিও আরও বিস্তৃত হয়েছে।

যৌথ আয়োজক: ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা (ধরা), বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন

সহ-আয়োজন: ৩৫টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (CAPS), ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (YASD), আপস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, ব্রাইটার্স, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (YEDO), ওএবি ফাউন্ডেশন, রিভার বাংলা, তরঙ্গ ফাউন্ডেশন, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার(CF), ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (DRDF), বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন (BKF), রিভারাইন পিপল, এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভস (ERDA), সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, সচেতন নাগরিক সমাজ সংগঠন, কোস্ট ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (CPRD), সেন্টার ফর রিনিউএবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড (CRESL), আর্থস অ্যান্টস, কাসমাস অর্গানাইজেশন, বারসিক (BARCIK), হাওর অঞ্চলবাসী, স্বপ্নের সিঁড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থা, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (MGB), ইকুইটি বিডি (Equity BD), সচেতন ফাউন্ডেশন, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য, গর্জন সমাজ কল্যাণ সংস্থা, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (BSREA), রিভার সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ, গ্রিনওয়ে রিনিউএবল এনার্জি ইমপ্লিমেন্টেশন অর্গানাইজেশন, ইউনিভো (UNIVO), ইউক্যান (YouCan), গ্রিনপিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।