‘নদী ও পাখি’ আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে নদী, পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা

ঢাকা, ৬ অক্টোবর ২০২৬: নদী, পাখি, জলাভূমি, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘নদী ও পাখি’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষ হয়েছে। ৩ থেকে ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে ছিল দর্শনার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি।

প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রী ও ফটোগ্রাফি শিক্ষাবিদ আবির আবদুল্লাহ-এর নদী বিষয়ক এবং পাখি আলোকচিত্রী আনসার উদ্দিন খান পাঠান-এর পাখি বিষয়ক নির্বাচিত আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়। তাঁদের আলোকচিত্রের মাধ্যমে নদী ও পাখির সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের সঙ্গে পরিবেশের গভীর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়।

৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। ধরার সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং ধরার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধরার সদস্য জব্বার হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্ধারিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল, রিভার বাংলার সম্পাদক ও ধরার সদস্য ফয়সাল আহমেদ এবং বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পাখিবিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, নদী, পাখি ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব। নদী দখল, দূষণ ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাহবুবা ফারজানা বলেন, প্রদর্শনীর প্রতিটি ছবির একটি করে গল্প রয়েছে এবং সেই গল্পগুলো মানুষের হৃদয় ও মননে ধারণ করা প্রয়োজন। প্রকৃতি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রদর্শনীর শেষ দিনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন কুমার তুলশি দাস গ্যালারি পরিদর্শন করেন। তিনি প্রদর্শিত আলোকচিত্রগুলো ঘুরে দেখেন এবং নদী, পাখি ও জীববৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে আলোকচিত্রীদের কাজ ও সংরক্ষণের বার্তা সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সমাপনী দিনে আবির আবদুল্লাহ ও আনসার উদ্দিন খান পাঠানের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ গ্যালারি টক অনুষ্ঠিত হয়। এতে তাঁরা নদী ও পাখির আলোকচিত্র ধারণের অভিজ্ঞতা, প্রকৃতির পরিবর্তন, পরিবেশগত সংকট নথিবদ্ধ করতে ফটোগ্রাফির ভূমিকা এবং আলোকচিত্রের মাধ্যমে সংরক্ষণের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। দর্শনার্থীরাও তাঁদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং প্রদর্শিত ছবিগুলোর পেছনের গল্প জানতে পারেন।

চার দিনের এ আয়োজন শুধু আলোকচিত্র উপভোগের সুযোগই তৈরি করেনি; বরং নদী, পাখি ও প্রাণ-প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্ক এবং এগুলো রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও দর্শনার্থীদের ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে।