বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০২৬: বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং বায়ুর মান উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা। শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই (Renewables Now)’ বিশেষ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘বায়ুদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ডা. মোসা. মাহমুদা পারভিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস)-এর ডিরেক্টর প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. শরিফ নাফে আস-সাাবের। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য দেন এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির প্রফেসর ইমেরিটাস ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম নুরুল আমিন এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের উপপরিচালক রউফা খানম।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. শরিফ নাফে আস-সাাবের বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সমস্যার প্রকৃতি ও উৎস চিহ্নিত করতে হবে। দেশীয় প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। দূষণের কারণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হলে কার্যকর সমাধান নির্ধারণ করা সহজ হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারেও বাধা সৃষ্টি করছে। জীবাশ্ম জ্বালানি, বিশেষ করে কয়লা ও জ্বালানি তেল পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও দূষক পদার্থ সোলার প্যানেলের ওপর জমে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোসা. মাহমুদা পারভিন বলেন, বায়ুদূষণ এখন আর কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি। টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ শিল্পায়নের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, বায়ুদূষণের কারণে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ধুলাদূষণে সোলার প্যানেলের কার্যকারিতা কমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। আলোচনা সভায় বক্তারা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ুর মান উন্নয়ন, দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।










