ম্যানিলাভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন APMDD-এর উদ্যোগে জাপানের তিন মেগাব্যাংকের জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়নের বিরুদ্ধে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশে তিন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি
ম্যানিলাভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন Asian Peoples’ Movement on Debt and Development (APMDD)-এর উদ্যোগে জাপানের তিনটি বৃহৎ মেগাব্যাংক- Mitsubishi UFJ Financial Group (MUFG), Mizuho Financial Group এবং Sumitomo Mitsui Banking Corporation (SMBC)- এর জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে অব্যাহত অর্থায়নের বিরুদ্ধে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশে তিনটি স্থানে একযোগে নৌ র্যালি, সাইকেল র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) জাপানে অনুষ্ঠিত MUFG, Mizuho ও SMBC-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) উপলক্ষে ফিলিপাইনের মাকাতি সিটিতে APMDD-এর নেতৃত্বে প্রধান প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে আঞ্চলিক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ব্রাইটার্স, সিপিআরডি, ইকুইটিবিডি, মিশন গ্রীন বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, একশন এগেইনস্ট জাপান, এপিএমডি এবং এশিয়ান এনার্জি নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। একই দিনে ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশেও সমান্তরাল প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত Banking on Climate Chaos 2026 প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের জীবাশ্ম জ্বালানি অর্থায়নে জাপানের এই তিনটি মেগাব্যাংক শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে MUFG, Mizuho এবং SMBC সম্মিলিতভাবে কয়লা, তেল ও গ্যাসভিত্তিক প্রকল্পে ১২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে। জলবায়ু আন্দোলনকারীদের মতে, এই বিপুল অর্থায়ন বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটকে আরও তীব্র করছে এবং এশিয়ার দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল ও দূষণকারী জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে।
বাংলাদেশে কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে নৌ র্যালি, কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে সাইকেল র্যালি এবং গাজীপুরের কড্ডায় মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে, কৃষক, তরুণ-যুব, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ হলেও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে জলবায়ু সংকট আরও গভীর হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, তাপপ্রবাহ ও জীবিকা সংকটের মতো বহুমাত্রিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বক্তারা জাপানের তিনটি মেগাব্যাংকের প্রতি নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্পে অর্থায়ন অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিদ্যমান জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প থেকে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তরে অর্থায়ন বৃদ্ধির দাবি জানান।
আয়োজকরা বলেন, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একযোগে পালিত এই কর্মসূচি জাপানের মেগাব্যাংকগুলোর প্রতি একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে—জলবায়ু সংকটকে আরও গভীর করে এমন জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তারা।








