বাংলাদেশে ন্যায়সঙ্গত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়তে ‘এনার্জি টক-৪’ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে ন্যায়সঙ্গত, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘এনার্জি টক-৪: ট্রানজিশন রিয়েলিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ জুলাই ২০২৬ রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ)-এর সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান বাস্তবতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব এবং জ্বালানি রূপান্তরে নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে জ্বালানি রূপান্তরের যৌক্তিকতা’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের মূল কারণ শুধু জ্বালানির ঘাটতি নয়, বরং আমদানি-নির্ভরতার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারই টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের কার্যকর পথ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির জ্বালানি রূপান্তরে সম্ভাব্য প্রভাব’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও জ্বালানি গবেষক ড. মোশাহিদা সুলতানা। তিনি বলেন, জ্বালানি নীতি কখনোই শুধু প্রযুক্তি বা অর্থনীতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে বাণিজ্য, ভূরাজনীতি এবং জাতীয় স্বার্থ গভীরভাবে যুক্ত। যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের পথকে শক্তিশালী করতে হবে।

‘জ্বালানি রূপান্তরের আন্দোলন’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল। তিনি বলেন, জ্বালানি রূপান্তর কোনো অবান্তর চাওয়া নয়, এটি বাংলাদেশের সময়ের দাবি। জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণ, আমদানি-নির্ভরতা ও জলবায়ু ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রকৃতিকে ধ্বংস করে এবং মানুষের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে, তা কখনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরের আন্দোলন পরিচ্ছন্ন, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই হওয়া জরুরি। এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার সম্মিলিত অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী, পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধি, তরুণ নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি উপস্থাপনার পর অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে আরও স্বচ্ছ, টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং জলবায়ু-সহনশীল করে গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, নীতিগত সংস্কার, গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের উদ্যোগে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশে ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তর বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও নীতিগত সংলাপ জোরদার এবং তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘এনার্জি টক’ ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে।