নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণের দাবি মোংলায়, সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প বাতিলের আহ্বান

মোংলা, ২৩ অক্টোবর ২০২৬: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প বাতিলের দাবি উঠেছে শুক্রবার বিকেলে নারিকেলতলা মন্দির মাঠে বাগেরহাটের মোংলায় আয়োজিত জনসমাবেশে।

পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে যেখানে সম্ভব, সেখানেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সবাইকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। রামপালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সুন্দরবন সংরক্ষণে সরকারের সামগ্রিক ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন প্রকল্প বাতিলের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কয়লানির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম নবায়নযোগ্য জ্বালানির ধীর সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ জানান। শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সমাবেশে পরিবেশকর্মী, শ্রমিক প্রতিনিধি, তরুণ সংগঠকসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁরা সৌর ও বায়ুশক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ এবং জ্বালানি রূপান্তরে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র নেতৃত্বে ৩৭টি সমমনা সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের মাধ্যমে দেশজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ, জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থায় ন্যায্য রূপান্তরের দাবি তুলে ধরা হচ্ছে। এ প্রচারাভিযানের মূল বার্তা— ‘প্রাকৃতিক সম্পদে জ্বালানির যোগান, স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশ’।