আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা ঘিরে বৈশ্বিক বৈষম্য ও জলবায়ু অবিচারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ
১৬ অক্টোবর ২০২৬: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তনের ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, ঋণবিচার এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশসহ ৩৬টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে বরগুনা সদর, কলাপাড়া, তালতলী, পাথরঘাটা, কুতুবদিয়া, কক্সবাজারের পেকুয়া, মোংলা, পাবনা ও জামালপুরেও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে কর্মসূচি পালিত হয়।
১২–১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বক্তারা মুনাফাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও ঋণনির্ভর জলবায়ু অর্থায়নের সমালোচনা করেন। তাঁরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঐতিহাসিকভাবে অধিক নিঃসরণকারী দেশগুলোকে দায় স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগণের জন্য ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের গবেষণা প্রধান মো. ইকবাল ফারুক, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলাম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ও ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান, মীর মোহাম্মদ আলী, গর্জন সমাজ কল্যাণ সংস্থা থেকে ফারজানা উর্মিসহ আরও অনেকে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তারা বৈদেশিক ঋণের বোঝা কমিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো এবং ঋণ পরিশোধের চাপে মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করার দাবি জানান। তাঁরা জলবায়ু পরিবর্তনের ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণের পরিবর্তে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জলবায়ু অভিযোজনের নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে নতুন ঋণের ফাঁদে না ফেলা, কৃষক, জেলে, লবণশ্রমিক ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও ভূমির অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ পানি ও খাদ্যের নিশ্চয়তা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজন ও পুনর্গঠনে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা। বক্তারা জনগণের স্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।


















