বিগত সরকারের সময়ে সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে আদিবাসী জনগোষ্ঠী উচ্ছেদের যে ষড়যন্ত্র লক্ষ্য করা গিয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ১৮ জুন ২০২৫ ইং তারিখে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর মিশনে বিকাল ৪ টায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন আয়োজিত “আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের উপর সামাজিক বনায়নের প্রভাব” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কুবরাজ আন্ত:পুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) প্রত্যুষ আসাক্রা। মেঘাটিলা খাসিয়া পুন্জির মন্ত্রী মনিকা খংলার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র সদস্য সচিব শরীফ জামিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ জহিরুল হক। আরো বক্তব্য রাখেন ধরা’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম, হাওর রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়ক তোফাজ্জল সোহেল, ধরা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আদিবাসী নেত্রী বাবলী তালাং, কুবরাজ সংগঠনের উপদেষ্টা পাস্টর পাইরিন সুটিং, আগার পুঞ্জির মন্ত্রী সুখময় আমসে, বড়লেখা ৫ নং পঞ্জির মন্ত্রী কেনেডি সুমের, ৭ নং পুঞ্জিবাসী ইলিয়াস বারে, ফাদার ভ্যালেন্টাইন তালাং, নার্সারি পুঞ্জির প্রবাস মৃং প্রমুখ।

সভার প্রধান অতিথি শরীফ জামিল বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের পুন:মূল্যায়ন হওয়া উচিত। যে সমস্ত এলাকায় আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে, সে সমস্ত এলাকায় কোন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় মানুষের অভিমত গ্রহণ ও অর্থবহ প্রতিফলনকে নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত সংস্কার প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথি প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, সিলেট হচ্ছে বৈচিত্র্যময় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সমৃদ্ধ এলাকা। ভুল প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন পুঞ্জির জীবনযাত্রায় সমস্যা করছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থেই আদিবাসীদের সুরক্ষা করতে হবে।

ফাদার জোসেফ গোমেজ বলেন, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প আদিবাসীদের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।

ডাঃ মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী (বাহার) বলেন, আদিবাসীদের ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ের সাথে আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করবো। ন্যায্য দাবি আদায়ে আমাদের অতীতের মত ভবিষ্যতেও লড়াই করে যেতে হবে।

বাবলী তালাং বলেন, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে অতীতে সামাজিক বনায়ন হয়েছে। সামাজিক বনায়নের নামে অতীতে খাসিয়াদের পান জুম দখল হয়েছে। তিনি দখলকৃত পান জুমের জায়গা খাসিয়াদের ফিরিয়ে দিতে বলেন।

আব্দুল করিম কিম বলেন, বনকে বনের মত প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠার সুযোগ দিলেই বন বেড়ে ওঠে। কিন্তু সামাজিক বনায়নের নামে বন বিভাগ প্রকল্প গ্রহণ করে বনের সর্বনাশ করেছে।

তোফাজ্জল সোহেল বলেন, প্রাকৃতিক বনে সামাজিক বনায়ন কোনক্রমে গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক বনায়নের নামে এমনকিছু গাছ লাগানো হয়েছিল যা উপযুক্ত নয়। এই সমস্ত গাছ কেটে সাফ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রত্যুষ আসাক্রা বলেন, বনায়ন করার কিছু নেই। বনকে ধ্বংস না করলে বন বেঁচে থাকে। বন বিনাশ করে সামাজিক বনায়ন হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এমন হবেনা এই প্রত্যাশা করেন।

Newslink:

Please follow and like us: