প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্ব মহাসাগর দিবস এ বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠান পালিত হয়। এই দিনটি সমুদ্র এবং এর উপর আমাদের অব্যাহত নির্ভরতার কারনে উদযাপন করা হয়। আমাদের পৃথিবীর ৭০ শতাংশেরও বেশি জলে ঢাকা, এবং আমরা যে অক্সিজেন নিঃশ্বাসে নেই তার অর্ধেকেরও বেশি আসে সমুদ্রের উদ্ভিদ থেকে।
‘সাগরে প্লাস্টিক ফেলবো না, সমুদ্র নষ্ট করবো না’ এ স্লোগান নিয়ে ৮ জুন রোববার বেলা ১১ টায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের যৌথ আয়োজনে বরগুনার পাথরঘাটায় ‘বিশ্ব সমুদ্র দিবস ২০২৫’ পালিত হয়েছে। দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) তে বিশ্ব সমুদ্র দিবস উপলক্ষে সমুদ্রকে প্লাস্টিকসহ দুষনমুক্ত করতে সমুদ্রগামী জেলেদের মাঝে সচেতনতামূলক আলোচনা ও ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এ উদ্যেশে বক্তব্য রাখেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার কীর্তনীয়া, পাথরঘাটা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এরফান আহমেদ সোয়েন, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন, সাংবাদিক সোহেল মল্লিক, স্বেচ্ছাসেবক সোয়েব তাসিন, জেলে ছগির হোসেন, আব্দুল জলিল প্রমুখ।
মনোজ কুমার কীর্তনীয়া ও এরফান আহমেদ সোয়েন বলেন, পানি ছাড়া পৃথিবীতে জীব জন্তু, গাছপালা এবং মানুষ বাঁচতে পারে না। সমুদ্রের পানি এবং সমুদ্রের সম্পদ ছাড়া আমাদের মানবকুল এবং পৃথিবীতে টিকে থাকার সুযোগ নেই। তাই সমুদ্রকে আমাদেরই টিকিয়ে রাখতে হবে। আমাদের সকলের এগিয়ে আসতে হবে। জেলে সগির হোসেন ও আব্দুল জলিল বলেন, প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করতে হলে আগে কারখানা বন্ধ করতে হবে। উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, সমুদ্র দুষনের জন্য দায়ি শুধু যে বাংলাদেশের জেলেরা তা নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের শ্রমিকরা এর জন্য বেশি দায়ী। তাই আমাদের দেশের জেলেদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারের কুটনৈতিক তৎপরতা জরুরী দরকার। তিনি আরও বলেন, যেহেতু জেলেদের জীবিকা সাগরে তাই সাগর দুষনমুক্ত করতে জেলেদের ভুমিকা রয়েছে বেশি। সাগরমুখী জেলেদের প্লাস্টিক এবং অন্যান্য বর্জ্য ট্রলারে নির্ধারিত জায়গায় রেখে তা কুলে এসে নির্ধারিত স্থানে রাখতে হবে বা ডাম্পিং করতে হবে। এ বিষয়ে সকলকে আমাদের উদবুদ্ধ করতে হবে।