বৈশ্বিক অস্থিরতা: জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান জানিয়ে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ (ডব্লিউকেবি), এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি) এবং ফসিল ফুয়েল ট্রিটি (এফএফটি) ইনিশিয়েটিভ-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বৈশ্বিক অস্থিরতা: জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতের উপায়’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন (বকুল)। তিনি বলেন, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়টি একাধিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সমন্বিত পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে পরিবেশ দূষণ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি রামপাল প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, দেশের অব্যবহৃত ছাদ ও শিল্পকারখানার জায়গা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। একই সঙ্গে শক্তি সাশ্রয় এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
‘ধরা’-এর সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রিভারফক্স এনভায়রনমেন্টাল-এর সিইও ডোনা লিসেনবি, ফিলিপাইন থেকে আগত এপিএমডিডি-এর সমন্বয়ক লিডি ন্যাকপিল, এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল।
ডোনা লিসেনবি ‘জ্বালানি খাতে যুদ্ধের প্রভাব’ বিষয়ে আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা ও ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, যার প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আরও তীব্রভাবে পড়বে। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রামপাল, পায়রা ও মাতারবাড়ী এলাকায় সোলার হাব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
লিডি ন্যাকপিল ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায্যতা’ বিষয়ে বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটকে আরও তীব্র করছে উল্লেখ করে তিনি উন্নত দেশগুলোর ‘ফেয়ার শেয়ার’ অনুযায়ী জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায্য রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন।
শরীফ জামিল ‘বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব’ বিষয়ে বক্তব্যে বলেন, বিদ্যমান বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর অতিরিক্ত জমি ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ সম্ভব। তিনি সতর্ক করে বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন, মৎস্যসম্পদ ও স্থানীয় জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পায়রা ও পটুয়াখালী অঞ্চলের প্রকল্পগুলো সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং মাতারবাড়ী অঞ্চলে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক শিল্পায়ন খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ জিয়াউল হক, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ফসিল ফুয়েল ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ-এর এশিয়া ক্যাম্পেইনার মেগা মাসকি, ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দিপাল বড়ুয়া এবং সিপিআরডি’র নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুদ্দোহা।
বক্তারা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে আইনি ও নীতিগত কাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান জানান।



