পরিবেশকর্মী শরীফ জামিল ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়াটারকিপার অ্যালায়েন্সের কার্যনির্বাহী সদস্য। তিনি ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)র সদস্য সচিব। তিনি পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। শরীফ জামিল বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা হবিগঞ্জে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মাহফুজুর রহমান মানিক।

সমকাল: সম্প্রতি ভোলাগঞ্জের পাথর উত্তোলন নিয়ে আপনারা যে ‘নাগরিক বন্ধন’ করেছেন, সেখানে বলেছেন, মাথার ওপর মেঘালয়কে মরণফাঁদ বানিয়ে আত্মহত্যার এই চেষ্টা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এর ব্যাখ্যা কী? 

শরীফ জামিল: বেশির ভাগ পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায়, যা সুউচ্চ মেঘালয় পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত। ভূতাত্ত্বিক গঠনের রকমফেরে পাহাড়-পর্বত থেকে নানা রকম খনিজ ও পাথর ভিন্ন ভিন্ন কারণে গড়িয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। পাহাড়-পর্বতের পাদদেশ থেকে পাথর কিংবা মাটি সরিয়ে ফেললে তা ব্যাপক এবং অকস্মাৎ ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি করে। প্রচলিত বারকি নৌকায় পাথর আহরণের বদলে মেশিন দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে পাথর উত্তোলনের শুরু আশির দশক থেকে, যখন এরশাদ সরকারের শাসনামলে জাফলং এলাকায় এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে বালু ও মাটি খুঁড়ে পাথর আহরণ করে কিছু পাথর ব্যাবসায়ী। পাথর যে হারে প্রাকৃতিকভাবে আসে, তার চেয়ে বেশি উত্তোলন করতে গেলেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। 

সমকাল: তার মানে, পাথর উত্তোলনের একটা সহনীয় মাত্রা আছে?

শরীফ জামিল: আছে বটে। যেটা আগে হতো, অর্থাৎ কেবল গড়িয়ে আসা পাথরগুলো তোলা হতো বিশেষ নৌকা দিয়ে। কিন্তু এখন আর সে পরিস্থিতি নেই। বছরের পর বছর অতিরিক্ত পাথর উঠিয়ে সেই ইকো সিস্টেম ভেঙে ফেলা হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই আমরা দেখে আসছি গড়িয়ে আসা অতিরিক্ত পাথর বারকি নৌকা দিয়ে তোলা হতো। বর্তমানে যখন মেশিন দিয়ে পাহাড় খুঁড়ে পাথর নেওয়া হচ্ছে, তখন মাথার ওপরের তিন হাজার ফুট পাহাড়ও ধসে পড়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বড়পুঞ্জিতে গেলেই বোঝা যাবে, পাহাড় সত্যিই কতটা নিকটে। তাহেরপুরের উত্তরবরদল ইউনিয়নে গেলেই বোঝা যাবে পাহাড়ধস কতটা ভয়ংকর ও ক্ষতির কারণ। তা ছাড়া এক জায়গাতে কিন্তু এই বেপরোয়া পাথর উত্তোলন থেমে নেই।

সমকাল: এখন কেবল সাদাপাথর নিয়েই কথা হচ্ছে–

শরীফ জামিল: হ্যাঁ। এখন ভোলাগঞ্জের পর্যটন স্পটে যে সাদাপাথর আছে, তাও যখন নাই হয়ে যাচ্ছে, তখন বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু শুধু ভোলাগঞ্জ নয়; জাফলং, লোভাছড়া, উতমাছড়া,  বিছনাকান্দিসহ ওই এলাকায় কয়েক বছর ধরে এক্সক্যাভেটর কিংবা বোমা মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়ে পাথর বের করা হচ্ছে। আমরা শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলাম– মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা উচিত। সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখি, প্রায় প্রতিবছর কোনো কোনো পর্যটক এসে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রের চোরাবালিতে পড়ে প্রাণ হারায়। অনেক পাথর শ্রমিকের মৃত্যুও হয়েছে পাহাড় ধসে। এর মূল কারণ কিন্তু পাহাড় থেকে মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন। পাথর যখন খুঁড়ে বের করা হয় তখন পাহাড়ের আকার বদলে যায় এবং এমন চোরাবালি তৈরি হয়। শুধু চোরাবালি, মানুষের মৃত্যু বা ভাঙন নয়; নদী-খালবিল ইত্যাদি ভরাট হওয়ার কারণে নতুন নতুন এলাকায় বন্যার ঘটনা ঘটে। সিলেটের যে জলাবদ্ধতা বা বন্যা হয়, সেখানেও কিন্তু এর প্রভাব আছে। অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

সমকাল: যেমন–

শরীফ জামিল: পিয়াইন নদীর গতিপথ পরিবর্তন তার অন্যতম। যখন জাফলংয়ের পিয়াইন নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করল তখন আমাদের সীমান্তের ভূমির বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে বিডিআরের তৎকালীন কমান্ডার কর্নেল গুলজার মন্ত্রণালয়ে মিটিং ডাকার অনুরোধ করেন। পরে পরিবেশ অধিদপ্তরে তৎকালীন মন্ত্রী হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে এই বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। আমরা বলেছিলাম, অনিয়ন্ত্রিত পাথর উত্তোলনের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তখন সরকার বিজ্ঞানভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে কী পদ্ধতিতে কী পরিমাণ পাথর আহরণ করা যাবে, তা জানার আগ পর্যন্ত সব রকম মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় কিছুদিনের জন্য পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পরে আবার তা শুরু হয়। পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা সিলেটের অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয় এবং জাফলং এলাকাকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করানোর মধ্য দিয়ে ওই এলাকায় পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করাতে সক্ষম হয়। এর পরও পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি।

সমকাল: পাথর উত্তোলন যদি আগেও বন্ধ না হয়ে থাকে, তবে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিষয়টি কেন বেশি আলোচনায় আসে?

শরীফ জামিল: আগে এটা আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করত। এভাবেই আগে যে দল ক্ষমতায় আসত সে দলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করত। তারা এক্সক্যাভেটর মেশিন, ক্রাশার মেশিন– পুরো প্যাকেজ নিয়েই এটা করত। প্রতিবারই সরকার বদলের পর হাত বদল হতে গিয়ে তখন একটা সংকট দেখা দেয়। ৫ আগস্টের পর যখন আওয়ামী লীগের পতন ঘটে তখন সেখানে যেহেতু ওই সিন্ডিকেট নেই, এক ধরনের হরিলুট করা হয়। এখানে কাঁচা টাকার খেলা। সে জন্যই স্থানীয় প্রভাবশালীরা এর সঙ্গে যুক্ত হয়।

সমকাল: সম্প্রতি সমকালের প্রতিবেদনে এসেছে কীভাবে রাজনৈতিক দলগুলো এক হয়ে পাথর উত্তোলনের পক্ষে কথা বলছে–

শরীফ জামিল: আমি মনে করি, এর পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দলের থাকার কথা নয়। যদি কেউ সেভাবে কথা বলে, তবে বুঝতে হবে তাদের ভুল বোঝানো হয়েছে অথবা কোনো বৈষয়িক স্বার্থ জড়িত। হ্যাঁ, স্থানীয় পর্যায়ে যারা রাজনীতি করেন তারা পক্ষে থাকতে পারেন কিন্তু জাতীয়ভাবে এমন দুর্নীতি ও পরিবেশ ধ্বংসের পক্ষে কোনো রাজনীতিবিদের থাকার কথা নয়। এখানে কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ আসছে। ধরুন, রেল ডাকাতি করলে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। তাই বলে কেউ এ ডাকাতিকে স্বীকৃতি বা তা করতে দেবে? 

সমকাল: সিলেটে পর্যটনের যে সম্ভাবনা, পাথর উত্তোলন সেখানে কতটা সংকট তৈরি করেছে?

শরীফ জামিল: দেখুন, পাথর এবং স্বচ্ছ পানির কারণেই মানুষ আসত। পর্যটনের বড় সম্ভাবনা পাথরই তৈরি করেছে। পাথরের কারণে পানি এত স্বচ্ছ ছিল। পাথর ভাঙন ঠেকাতেও ভূমিকা রাখে। আমরা দেখি, নদীভাঙন ঠেকাতে ব্লক ব্যবহার করা হয়। ব্লক তৈরিতে ব্যবহার হয় পাথর। আমরা দেখছি, প্রাকৃতিক ব্লক লুট করে আমরা এখানে ভাঙনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি পাথর উত্তোলনের অনুমোদন দিয়ে। পর্যটনের একটা আকর্ষণীয় পথ ছিল রোপওয়ে। ব্রিটিশ পরিকল্পনায় নির্মাণ করা হয়েছিল রেলওয়ের রোপওয়ে বা রজ্জুপথ। বাংলাদেশের একমাত্র রোপলাইন দেখতে তখন পর্যটকরা যেতেন। সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত হাওর-নদীপথের ওপর দিয়ে রোপলাইনে চলাচলও তখন দর্শনীয় ছিল। সর্বশেষ, ২০০৯ সাল পর্যন্ত রোপলাইন চলেছে। এর পর আর চলেনি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এ সম্ভাবনা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। আমরা এই ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারছি না। 

সমকাল: প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে পারেনি? 

শরীফ জামিল: পাথর উত্তোলনের সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংযোগ কিংবা যোগাযোগ আছে। তাদের অনেকে এই সিন্ডিকেটে জড়িত। তবে ভালো প্রশাসকও আছেন। আমার মনে আছে, পরিচিত এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কোম্পানীগঞ্জের দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলাম মন্ত্রণালয়ের মিটিং থেকে এলাকায় বোমা মেশিন জব্দ করতে গেলে উল্টো ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়েন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ দিয়ে তাঁকে উদ্ধার করতে হয়।

সমকাল: শক্ত এই সিন্ডিকেট ভাঙার উপায় কী? 

শরীফ জামিল: বিক্ষিপ্ত কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে পদক্ষেপ নিয়ে পাথর উত্তোলনের বড় সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হবে। এ জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে জন্য সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। পাশাপাশি যত অংশীজন আছে সবাইকে নিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। যারা পাথর উত্তোলন করছে তাদের তালিকা করতে হবে। যাদের বিকল্প কর্মসংস্থান প্রয়োজন তাদের সেভাবে কর্মসংস্থান করতে হবে। সর্বোপরি অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সমকাল: ভোলাগঞ্জের পাথর উত্তোলন এখন আলোচনায় আছে। তাতে সিলেটে অন্যান্য পাথর স্পট কি অগ্রাধিকার হারাচ্ছে? 

শরীফ জামিল: সরকারকে সব স্পটেই নজর দিতে হবে। জাফলংয়ের সংকটও অনেক গভীর। তা ছাড়া লোভাছড়া, উৎমাছড়া, বিছনাকান্দি– সর্বত্র পাথর লুট হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরের আইকনিক স্পট বলে তা আলোচনায় আসছে। আমরা সব স্পট সুরক্ষার ব্যাপারেই দাবি জানিয়ে আসছি।

সমকাল: সম্প্রতি লুট হওয়া সব পাথর আগের জায়গায় ফেলতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন কাজও শুরু করেছে। এটি কতটা সুফল বয়ে আনবে?

শরীফ জামিল: পাথরের পাশাপাশি যারা এর সঙ্গে যুক্ত, সেই অপরাধীদেরও গ্রেপ্তার করতে হবে। খবরে আমরা দেখছি সেখানে কত পাথর পুনরায় ফেলা হচ্ছে। এক লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধারের খবরও এসেছে। প্রশ্ন হলো, এ পরিমাণ যে যুক্ত হচ্ছে, তা কারা মনিটর করছে? অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে না পারলে এর সুফল পাওয়া কঠিন হবে। আগেই বলেছি, সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা পাথর ও পরিবেশ সুরক্ষায় আন্দোলন করছেন, তাদের যুক্ত করা দরকার। পর্যটন-সংশ্লিষ্টদের এ কাজে সম্পৃক্ত করুন। রাজনৈতিক দলগুলোর ঊর্ধ্বতন নেতাদেরও যুক্ত করা দরকার। তার আগে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতেই হবে। এতে যে আইনের ব্যত্যয় ঘটছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ডেকে আনছে এবং মানবিক বিপর্যয় হচ্ছে, তা অনুধাবন করে সরকারকে সেভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। 

সমকাল: আমাদের অভ্যন্তরীণভাবে পাথরের অনেক চাহিদা, যার অধিকাংশই আমদানি করতে হয়। পাথর লুট ঠেকিয়ে সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কি দেশের পাথর দিয়ে আরও চাহিদা মেটানো সম্ভব?  

শরীফ জামিল: আমাদের পাথরের যে চাহিদা তার প্রায় ৯৪ শতাংশই আমদানি করতে হয়। এর বিজ্ঞানভিত্তিক সমীক্ষা হতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি না, পাথরের অভ্যন্তরীণ জোগান আমাদের জোর করে মেটাতে হবে। আমাদের পাথর নেই, সুতরাং সে বাস্তবতা মেনেই আমদানি করতে হবে। আমাদের অন্য যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, আমরা তো সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি না। বাংলাদেশ হচ্ছে ব-দ্বীপ। আমাদের মাছ আছে, পানি আছে, পলি আছে, ফসল আছে, ধান আছে। এই সম্পদগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগালে আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। এগুলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও করতে পারি। কিন্তু পাথর এখানে হয় না। সুতরাং অযথা পাথরের ওপর চাপ বাড়িয়ে লুণ্ঠনের পথ আরও প্রশস্ত করার দরকার নেই।  

সমকাল: এখন স্থানীয় অনেকের জীবন-জীবিকা হয়ে গেছে পাথর উত্তোলন। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান কী হতে পারে?

শরীফ জামিল: সিলেট প্রাকৃতিক সম্পদের আধার। যেটা একটু আগেই আমি বলেছি, সেগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়। সেখানে পর্যটন সম্ভাবনা অনেক। পরিকল্পিতভাবে পর্যটন গড়তে পারলেও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। বরং তারা আরও সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারবে। কারণ আমরা দেখেছি, পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে শ্রমিক মারাও যাচ্ছে। তবে হ্যাঁ, পাথরের মাধ্যমেও কিছু কর্মসংস্থান হতে পারে যখন সেখানে মেশিন দিয়ে উত্তোলন বন্ধ করে আগের পরিবেশ ফিরে আসবে, তারপর। তখন আগের মতো বারকি নৌকার মাধ্যমে পাথর সংগ্রহও করা যেতে পারে।  

সমকাল: পাথর রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল কী হতে পারে?

শরীফ জামিল: বিজ্ঞানভিত্তিক সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, সেখানকার পুরো সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। এ সিন্ডিকেট কতটা শক্তিশালী আমরা দেখেছি, সেখানে দুজন উপদেষ্টা গেলে তাদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হলো। এ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। সিলেটে পাথরসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় সরকারের মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। সেভাবে প্রশাসনকে কাজে লাগাতে হবে। আমি মনে করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন কঠোর হলে এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে। এখানে সর্ষের ভেতরেও ভূত আছে। সেই ভূত তাড়াতে না পারলে পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়।

Source: Samakal

Please follow and like us: