২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখেজাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি’র ‘নদীতে প্রাণের কান্না: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও’ শীর্ষক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদী নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এবং ‘বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC)’ যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযাত্রী মাসফিকুল হাসান টনি কুড়িগ্রামের রৌমারির ইটালুকান্দার ডিগ্রীর চর থেকে ভোলার চর কুকরি-মুকরি পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ দিনে ৬৩০ কিলোমিটার পথ হেটে পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নদীর তীর ধরে হাটার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাস্তা খুজে বের করা। নদীর পাড় ধরে হাটতে গিয়ে তিনি নদীর পাড়ের মানুষের বৈচিত্রতা দেখেছেন আবার নদী ভাঙন, দূষণ এবং চরের ভয়াবহতা দেখে আতকে উঠেছেন। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ‘ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম. এস সিদ্দিকী। সংবাদ সম্মেলনে ধরা’র সদস্য সচীব শরীফ জামিল অভিযানের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন। সম্মেলন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সদস্য ও রিভার বাংলা’র সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে ‘ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম. এস সিদ্দিকী টনিকে তাঁর অসাধারন কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি টনিকে তাঁর দেখা নদীর পাড়ের মানুষের সরলতা, নদী ভাঙনের চিত্র বা নদীর দূরবস্তার কথা বই আকারে প্রকাশের পরামর্শ দেন যাতে করে সকলেই এবিষয়ে জানতে পারে। ধরা টনির এই অভিযানের সাথে থাকতে পেরে গর্বিত।
ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, এবার রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনি ইশতেহারে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। নতুন নির্বাচিত সরকারও পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নদী-খাল পূনরুদ্ধার বা পূনঃখননের আগে চলমান দখল ও দূষণ বন্ধ করা জরুরী। গাছ লাগানোর গুরুত্ব রয়েছে কিন্তু তাঁর আগে গাছ কাটা ও বনাঞ্চল ধ্বংস বন্ধ করা উচিত। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, নদীর উপর মানুষের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকা ভীষণভাবে নির্ভর করে, নদী ধ্বংস হলে বিপর্যস্ত হয় সংশ্লিষ্ট জনপদ। তাই সরকারকে নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির বিস্তার বন্ধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত অভিযাত্রী ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC) এর প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক, এভারেস্টজয়ী ইকরামুল হাসান শাকিল, Peak 69-এর স্বত্বাধিকারী হানিয়াম মারিয়া রাকা, এবং চুনতি রক্ষায় আমরা এর সমন্বয়ক সানজিদা রহমান। বক্তারা সম্মিলিতভাবে নদী রক্ষায় তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং আগামীতে এই ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



