ভোলা, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত একক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযানের সফল সমাপ্তি উপলক্ষে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার আলিমদ্দি বাংলাবাজারে একটি সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)–এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা, যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এবং বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব–এর যৌথ আয়োজনে গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার চর ইটালুকান্দা গ্রাম থেকে মাসফিকুল হাসান টনি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি মুকরির উদ্দেশ্যে এই অভিযান শুরু করেন। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পদযাত্রায় তিনি ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল অতিক্রম করেন।
অভিযানের পথপরিক্রমায় নদীভাঙন, বালু উত্তোলন, মাছের উৎপাদন হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করা হয়। একই সঙ্গে নদীপাড়ের মানুষের সংহতি ও সংগ্রামের চিত্রও এই যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শরীফ জামিল, সদস্য সচিব, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) বলেন, “নদী বাঁচলে বাঁচবে জেলে, নদী বাঁচলে বাঁচবে কৃষক। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে নদী সুরক্ষা ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তার বন্ধের দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করাই এই দীর্ঘ ও সাহসী পদযাত্রার লক্ষ্য।”
পরিব্রাজক মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে নদীভাঙন বিভিন্ন জনপদে মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। বারবার গ্রাম ও ঘর হারিয়ে বহু মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। আমাদের নদী রক্ষা ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সমাবেশের মাধ্যমে নদীপাড় ধরে পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। প্রতীকী বার্তা হিসেবে টনি চর কুকরি মুকরি থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত যাত্রা সম্পন্ন করবেন, যা বাংলাদেশের নদী সংরক্ষণ ও জলবায়ু ন্যায়ের দাবিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবে।














